,

জীবিতকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ, ইউপি সদস্য কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর: জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ওয়ারিশন সনদপত্র দেওয়ায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার (১২ মে) ফরিদপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাওন আহমেদ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ মামলায় বাকি চার আসামি উপজেলা কৃষকলীগের সদস্য সচিব খান আমিরুল ইসলাম, জব্বার শেখ, ইয়ার আলী, আখি আক্তার ও সোহাগী বেগম ২৮ দিনের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রীয়পক্ষের আইনজীবি এপিপি (সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর) দুলারী আক্তার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী আয়েশা বেগমের পাঁচ ছেলের মধ্যে তিনজন জীবিত এবং দুইজন মৃত। আলমগীর নামে এক সন্তান ২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১৭ বছর বয়সে অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তার বাবা আব্দুর রহমান মোল্যা মারা যান। এদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ মে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৮০৯/২৪ নম্বরের একটি দলিল সৃজন হয়। দলিলে দাতা হিসেবে দেখানো হয় মৃত আলমগীরের সাজানো স্ত্রী সোহাগী বেগম এবং মেয়ে হিসেবে আখি আক্তারকে। অথচ আখির জন্ম ২০০৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ আলমগীরের মৃত্যুর দুই বছর পর।

জাল দলিলের সহায়তায় আয়েশা বেগমকে (যিনি জীবিত) ‘মৃত’ দেখিয়ে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়। ওয়ারিশ সনদে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম হোসেন শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

জমি দখলের চেষ্টা ও তদন্ত প্রতিবেদন:
২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) আয়েশা বেগমের পাড়াগ্রাম মৌজার বি.এস. খতিয়ান ২৩৫ ও ৩৭১ নম্বর জমিতে দখল নিতে গেলে অভিযুক্ত ইব্রাহিম ও তার সহযোগীরা উপস্থিত হন। বাধা দিলে ইব্রাহিম দাবি করেন—তিনি জমি ক্রয় করেছেন।

এ ঘটনায় আদালত ফরিদপুর পিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ইতিপূর্বেও বিতর্কিত ছিলেন ইউপি সদস্য:

স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য ইব্রাহিম হোসেন এর আগেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন। নিজ গ্রামের এক প্রবাসী—নিয়ামুলের স্ত্রী সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী কয়েক নেতার সহায়তায় বেঁচে যান। কিন্তু ধ্বংশ হযে যায় নিয়ামুলের পরিবার। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে যে, নিয়ামুলের স্ত্রীকে গোপনে বিয়ে করেছেন লম্পট ইব্রাহীম মেম্বার। মা ছাড়া অসহায় দিন কাটাচ্ছে নিয়ামুলের সন্তানেরা।

রাজনৈতিক মহলেও উঠেছে প্রশ্ন: স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, “গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশের বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পলাতক বা কারাগারে রয়েছে। অথচ ইব্রাহিম কীসের জোরে এখনো বহাল তবিয়তে ইউনিয়ন সদস্যের চেয়ারে বসে আছেন? প্রশাসন কি এখন এই জালিয়াতির আসামিকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করবে না?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগের মোড়ের ব্যাবসায়ী জানান, ইব্রাহীম মেম্বার ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই নানান অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। পাড়াগ্রাম বাগের মোড়ে তার নিজ অফিসে গভীর রাতে মাদকের আসর বসাতেন ইব্রাহীম। শুধু তাই নয়, অফিসে খাট পেতেছেন বিশ্রামের জন্য। বিশ্রামের নামে এই গোপন কক্ষেই চলে মাদক ও নারী নিয়ে নোংরামীর আসর।

জনমতের দাবি: এদিকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পাড়াগ্রামের জনগণ, একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে জনপ্রতিনিধির পদ থেকে ইব্রাহিমকে দ্রুত অপসারণের জোর দাবী করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর